বাংলাদেশের ওপরও বহুমাত্রিক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে
ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ও প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে এক নজিরবিহীন উত্তেজনার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের একতরফা "আমেরিকা ফার্স্ট" পররাষ্ট্রনীতি, অটোমোবাইল ও কৃষিখাতে শুল্ককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার এবং উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’র যৌথ পর্যালোচনায় জটিলতার কারণে শেষ মুহূর্তে ভেস্তে গেছে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা। শুল্ক হ্রাসের পরিধি, কানাডার 'অনলাইন স্ট্রিমিং অ্যাক্ট' এবং কুইবেকের ফরাসি ভাষা সংক্রান্ত 'বিল ৯৬'-এর মতো সংবেদনশীল সাংস্কৃতিক ও নীতিগত বিষয়ে কোনো পক্ষই আপস করতে রাজি না হওয়ায়, এই বিরোধ এখন অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের জবাবে কানাডার ২৭.৬ বিলিয়ন ডলারের পাল্টা শুল্ক ও বিপুল আর্থিক সহায়তার ঘোষণা মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্য যুদ্ধেরই ইঙ্গিত দেয়। বিশ্ব অর্থনীতির এই অস্থিতিশীলতা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভাজন কীভাবে কেবল উত্তর আমেরিকা নয়, বরং বাংলাদেশসহ উদীয়মান অন্যান্য অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলছে—তা অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার বাণিজ্য আলোচনা একেবারে শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যায়। ২২ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র কানাডিয়ান পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এর জবাবে ২৫ আগস্ট কানাডা মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। কানাডা ২৭.৬ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার (প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) মূল্যেও প্রায় ৭০০টি মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করে, যা কার্যকর হয় ৮ সেপ্টেম্বর। এর আর্থিক মূল্য যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্কের সমতুল্য। একই সঙ্গে, কানাডা ৭.৫ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের একটি ব্যবসায়িক ও শ্রমিক সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর লক্ষ্য, বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের শিল্পগুলোকে সহায়তা প্রদান করা।
জটিল আবর্তে ঘূর্ণমান বাণিজ্য আলোচনার নিকট অতীতে গেলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্র "আমেরিকা ফাস্টর্" (সবার আগে আমেরিকা) পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করে। যুক্তরাষ্ট্র অন্য অনেক দেশের মতো কানাডার বিষয়েও তাদের নীতিতে পরিবর্তন আনে।
বাণিজ্য নীতি পুনর্বিন্যাসের একটি পদক্ষেপ হিসেবে অবৈধ অভিবাসন ও ফেন্টানাইল (এক ধরণের শক্তিশালী মাদক) সংক্রান্ত বিষয়কে কারণ হিসেবে দেখিয়ে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র কানাডা থেকে আমদানিকৃত নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্কের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এই শুল্ক আরোপ ও পাল্টা পদক্ষেপগুলোর ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পায়। যদিও এর আগে তাদের সম্পর্কটি একটি "বিশেষ সম্পর্ক" হিসেবে পরিচিত ছিল।

শুল্ক আরোপ ও পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্যেই উভয় দেশ বাণিজ্য আলোচনা শুরু করেছিল। তবে ২০২৫ সালে তারা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ইউএসএমসিএ(যুক্তরাষ্ট্র—মেক্সিকো—কানাডা চুক্তি)—এর প্রথম যৌথ পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চুক্তিবদ্ধ পক্ষগুলো অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা চুক্তির বিতর্কিত বিষয় এবং চুক্তিটির নবায়ন করা হবে কি না, সে বিষয়ে আলোচনা ও দরকষাকষি করে। কয়েক দফা আলোচনার পরও তিন পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। চুক্তিটির ১৬ বছরের জন্য সরাসরি মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। এর পরিবর্তে, একটি "বার্ষিক পর্যালোচনা" প্রক্রিয়া চালু করা হয়; অর্থাৎ, ২০৩৬ সালে চুক্তির মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগামী ১০ বছর ধরে দেশ তিনটিকে প্রতি বছর আলোচনার টেবিলে বসতে হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার আগের মেয়াদে ইউএসএমসিএ (যুক্তরাষ্ট্র—মেক্সিকো—কানাডা চুক্তি)—র জন্য জোর প্রচেষ্টা চালালেও, ২০২৬ সালে মার্কিন প্রশাসন বাণিজ্য বিধিমালা নতুন করে সাজানোর লক্ষ্যে আলোচনার ক্ষেত্রে শুল্ককে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করে। এর মাধ্যমে তারা কানাডাকে অটোমোবাইল, কৃষি এবং ডিজিটাল বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে ছাড় দিতে বাধ্য করার চেষ্টা চালায়। ২০২৬ সালের ২০ জুলাই, ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৩০ সালের স্মুট—হলি ট্যারিফ অ্যাক্টের ৩৩৮ ধারা উল্লেখ করে কানাডা থেকে আমদানিকৃত শত শত নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর ৫০% শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়, যা ১৯ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। কানাডা শুরুতে বাজারে প্রবেশাধিকার ও নীতিগত নিশ্চয়তার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত কিছু শুল্ক মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল। এর ফলে উত্তেজনা কিছুটা কমে এসেছিল। ১৮ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র জানায় যে, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা এবং চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তারা কানাডার ওপর ৫০% শুল্ক আরোপের বিষয়টি তিন দিনের জন্য স্থগিত রাখবে। তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনা ভেস্তে যায়। বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পেছনে কারণ হিসেবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র "অতিরিক্ত দাবি করছিল এবং বিনিময়ে খুব কমই দিচ্ছিল"।
যুক্তরাষ্ট্র—কানাডা আলোচনার সুনির্দিষ্ট মতপার্থক্যগুলো ছিল মূলত অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে। এটি স্পষ্ট যে শুল্ক হ্রাসের পরিধি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মতভেদ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র জোর দিয়ে বলেছিল যে, কানাডিয়ান যানবাহনের ওপর শুল্ক হ্রাসের সুবিধা কেবল যাত্রীবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া উচিত, মাঝারি ও ভারি ট্রাকের ক্ষেত্রে নয়; কানাডা এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছিল।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতি সমন্বয়ের বিষয়েও উভয় পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে দাবি জানিয়ে আসছে যে, কানাডাকে "অ—বাজারভিত্তিক নীতি ও প্র্যাক্টিস" এবং "অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা"— সংক্রান্ত নীতিগুলোর ক্ষেত্রে সমন্বয় সাধন করতে হবে। বাণিজ্য আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র এমন সব শর্ত বা ধারা কানাডার সাথে চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিল যা কানাডার পক্ষে অন্য দেশের সাথে বাণিজ্য চুক্তি করার সুযোগ সীমিত করে দেয়; একইসাথে তারা কানাডাকে আহ্বান জানিয়েছিল যেন অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র যেসব শুল্ক ব্যবস্থা অনুসরণ করে, কানাডাও ঠিক সেগুলোই গ্রহণ করে। কার্নি সরকারের মতে, এসব দাবির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের সাথে কানাডার বাণিজ্য চুক্তি করার সক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সাংস্কৃতিক সুরক্ষা ও সহায়তা সংক্রান্ত নীতিমালার বিষয়েও উভয় পক্ষের মধ্যে মতভেদ ছিল। দেশীয় সংস্কৃতিকে সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে, ২০২৩ সালের এপ্রিলে কানাডা 'অনলাইন স্ট্রিমিং অ্যাক্ট' পাস করে। এরপর এ সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করা হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, কানাডায় বার্ষিক ২৫ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের বেশি আয়কারী বিদেশি স্ট্রিমিং সার্ভিসগুলোকে তাদের আয়ের ৫ শতাংশ কানাডিয়ান সাংস্কৃতিক তহবিলে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। কিন্তু কানাডিয়ান স্ট্রিমিং সার্ভিসগুলোকে এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি হলো, এই চর্চা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সার্ভিসগুলোর মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করে এবং কানাডার বাজারে আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে কাঠামোগতভাবে অসুবিধাজনক অবস্থানে ঠেলে দেয়।

ফরাসি ভাষার অধিকার সুরক্ষার বিষয়ে, ২০২২ সালের জুনে কুইবেকের 'বিল ৯৬' কার্যকর হয়। এর লক্ষ্য ছিল ওই প্রদেশে ফরাসি ভাষার ব্যবহার জোরদার করা। মার্কিন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো এই বিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে। তাদের মতে, এটি তাদের পণ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে; কারণ এই বিলে পণ্যের মোড়ক ও লেবেলে থাকা অ—ফরাসি ট্রেডমার্ক এবং সেই ট্রেডমার্কের অন্তর্ভুক্ত 'সাধারণ পরিভাষা' বা 'পণ্যের বিবরণ' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল যেন কুইবেক প্রাদেশিক সরকার ব্যবসায়িক মহলের উদ্বেগের বিষয়টি বিবেচনায় নেয় এবং বিলটির ব্যাখ্যামূলক নির্দেশিকা ও চূড়ান্ত বিধিমালা প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করে। তবে কার্নি সরকার অনড় অবস্থানে থাকে। এক প্রতিক্রিয়ায় জানায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের দাবিসমূহ কেবল শুল্ক বা বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয় নয়, বরং কানাডার সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্বের সাথেও জড়িত। কানাডা সরকার ফরাসি ভাষা সুরক্ষার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে সেসব বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে কোন আলোচনা করতে চায়নি। তারা এটিকে একটি 'অ—আলোচনাযোগ্য মৌলিক অধিকার' হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এসব প্রত্যক্ষ মতপার্থক্য ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র—কানাডা আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পেছনে আরও জটিল ও নানাবিধ অন্তর্নিহিত বিরোধ কাজ করেছে। বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়াটা ছিল বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের লেনদেনমূলক কূটনীতির এক অনিবার্য পরিণতি। ট্রাম্প প্রশাসন জোট ভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি থেকে সরে গিয়ে একপাক্ষিক লেনদেনমূলক পররাষ্ট্রনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েছে। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে, মার্কিন প্রশাসন তার অর্থনৈতিক মিত্রদের "শোষক" হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং বাণিজ্য ঘাটতিকে অন্যান্য দেশ কর্তৃক যুক্তরাষ্ট্রকে "ঠকানো"—র প্রমাণ বলে দাবি করেছে। মার্কিন প্রশাসন আরও দাবি করে, তার বাণিজ্য অংশীদাররা "সুযোগ’’ নেওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ঘাটতির শিকার হয়েছে। এ কারণেই বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন তার প্রায় সকল বাণিজ্য অংশীদারের বিরুদ্ধে একতরফা শুল্ক আরোপের অস্ত্র ব্যবহার করছে। এই লেনদেনমূলক পররাষ্ট্রনীতির কারণে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা থেকে শুরু করে কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে বিস্তার ঘটায় যুক্তরাষ্ট্র কানাডার ওপর শুল্ক আরোপের ক্রমাগত হুমকি দিয়ে চলেছে। এর ফলে মার্কিন প্রশাসনের প্রতি কানাডার আস্থা হ্রাস পেয়েছে।
স্বল্প মেয়াদে, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বর্তমান শুল্ক অচলাবস্থা আরও কিছুকাল অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য যুদ্ধের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অনেকের আশঙ্কা, দুই দেশ তাদের অতীতের সম্পর্কে আর ফিরবে না। কানাডা সরকারের সিদ্ধান্তপ্রণেতাদের অনেকের কাছে মনে হয়েছে, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যেই থাকুক না কেন, মার্কিন লেনদেনমূলক পররাষ্ট্রনীতি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে থাকবে; মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কানাডা থেকে আরও বেশি অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় করতে চাইবে, এবং ক্রমাগত চাপের মাধ্যমে কানাডাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল স্বেচ্ছায় অনুসরণ করতে বাধ্য করবে।
দীর্ঘমেয়াদে, রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা ও হঠকারিতার কারণে মার্কিন—কানাডার প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতার বর্তমান গতিশীল ভারসাম্যমূলক সম্পর্ক এক জটিল ভাঙনের মধ্য দিয়ে যেতে পারে, বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে উভয় দেশের নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়নের ক্ষেত্রে।
বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান এই তীব্র শুল্ক যুদ্ধ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে ধাক্কা দিচ্ছে, পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের ওপরও তার বহুমাত্রিক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে, পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দা ও বাণিজ্য সংঘাতের ফলে তৈরি পোশাকশিল্পের মতো বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিমুখী খাতগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, কারণ এই দুই দেশই বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম বড় বাজার। তবে অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে, যুক্তরাষ্ট্র যদি কানাডিয়ান পণ্য (যেমন—নির্দিষ্ট কৃষি ও শিল্পপণ্য) এবং অটোমোবাইল সামগ্রীর ওপর উচ্চ শুল্ক বজায় রাখে, তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও অন্যান্য শুল্কমুক্ত পণ্য কানাডার বাজারে আরও বেশি প্রতিযোগী সক্ষম হয়ে ওঠার একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

একই সাথে, বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের অস্থিরতা, বৈশ্বিক কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং উত্তর আমেরিকার উৎপাদন খাতে স্থবিরতার ফলে বাংলাদেশের আমদানি খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করে। তদুপরি, এই বাণিজ্য সংকটের কারণে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা নতুন ও নিরাপদ উদীয়মান বাজারের দিকে ঝুঁকতে পারে; বাংলাদেশ যদি উপযুক্ত বাণিজ্যিক পরিবেশ ও নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে, তবে উত্তর আমেরিকার এই অর্থনৈতিক জটিলতার মাঝেই বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কৌশলগত সুবিধা অর্জন করতে পারে।
লেখক: দুলাল আহমদ চৌধুরী, সম্পাদক ও প্রকাশক, নিউজ ডিপ্লোমেটস
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats