Friday, 17 April 2026
The News Diplomats
ডিপ্লোমেটস প্রতিবেদক :
Publish : 07:47 AM, 16 April 2026.
Digital Solutions Ltd

চট্টগ্রামে শাহাদাত ঠেকাতে মনজুর আলমকে দলে টানছে এনসিপি

চট্টগ্রামে শাহাদাত ঠেকাতে মনজুর আলমকে দলে টানছে এনসিপি

Publish : 07:47 AM, 16 April 2026.
ডিপ্লোমেটস প্রতিবেদক :

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের বাড়িতে গিয়ে দেখা করে আসার পর থেকে জোর আলোচনা চলছে রাজনীতির অঙ্গনে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আবার রাজনীতিতে ফিরছেন মনজুর আলম। মেয়র পদে লড়তে পারেন এনসিপির প্রার্থী হয়ে। এমনকি চট্টগ্রাম মহানগরে এনসিপির হালও ধরতে পারেন।

এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরীর নেতারা বলছেন, মনজুর আলম তাদের দলীয় রাজনীতিতে ‘যুক্ত হচ্ছেন না’। তবে তিনি এনসিপি থেকে মেয়র পদে প্রার্থী হতে ‘রাজি’। অবশ্য তাকে প্রার্থী করা নিয়ে দলের ভেতরে এখনো দ্বিমত আছে। অন্যদিকে মনজুর আলম বলেছেন, মেয়র পদে নির্বাচনের বিষয়ে ‘এখনো কিছু ভাবেননি’ তিনি। এসব বিষয়ে কথা বলতে মঙ্গল ও বুধবার চেষ্টা করেও সাবেক এই মেয়রের নাগাল পাওয়া যায়নি। অবশেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে টেলিফোনে তার সঙ্গে কথা হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

প্রশ্ন ছিল, “এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ আপনার সাথে দেখা করতে এসেছেন। এরপর থেকে আলোচনা হচ্ছে যে আপনি মেয়র পদে আবারও নির্বাচন করতে যাচ্ছেন। কী বলবেন?”

জবাবে মনজুর আলম বলেন, “আমি কেন ইলেকশন করব? কে আমাকে ইলেকশন করাবে? আমি মূলত সমাজসেবার কাজ করি। তাই সবাই আমার কাছে আসে। কেউ দেখা করতে আসে। কেউ ভোট চাইতে আসে। কেউ উইশ করতে আসে। কেউ ভালোমন্দ জানতে আসে। আমি তো ৫-৭ বছর মেয়র ছিলাম। “আজ পর্যন্ত আমি ১২০টি প্রতিষ্ঠান করেছি। স্কুল-কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠান করেছি। সেটা এক জিনিস।”

তাহলে মেয়র পদে নির্বাচন করার আলোচনা কীভাবে সামনে এল?

এমন প্রশ্নের উত্তরে হাস্যোজ্জ্বল মনজুর আলম বলেন, “এই যেমন এখন একটা পত্রিকা পড়ছি। সেখানে লিখেছে, আমার বাসায় হাসনাত আব্দুল্লাহ আসায় রাজনীতিতে নানা আলোচনা হচ্ছে। উনার লিখছেন। “নির্বাচন করব এটা আমি কাউকে বলিনি। আমি তো ঘরে বসে আছি। লোকজন আমার কাছে আসছে।”

২০১০ সালে বিএনপির মনোনয়নে মেয়র নির্বাচিত হয়ে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন মনজুর আলম। তারপর ২০১৫ সালে দ্বিতীয়বার বিএনপির প্রার্থী হয়েও ভোটের দিন ‘কারচুপির’ অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন ও রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।

বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে মনজুর আলম বলেন, “শুধু বিএনপি কেন, সবাই আসেন। এলাকার মানুষ আসে। ধনী, গরিব, রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী সবাই আসে। যতটুকু পারি কথা বলি। কুশল বিনিময় করি। শুধু ঈদে বা বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে আসেন–এমন নয়, অন্য সময়ও আসেন।

“যেহেতু আমি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ৪১টি ওয়ার্ডের বিষয়ে আমার ধারণা আছে। কেউ সেসব বিষয়ে জানতে আসে। যেহেতু বৃদ্ধ হয়েছি, কেউ কেউ রাজনৈতিক আলোচনাও করে আমার সাথে।”

তাহলে কি আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন? এনসিপির মহানগর কমিটিতে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন?

মনজুর আলম বলেন, “রাজনীতির পোর্ট ফোলিও আমার অতীতেও ছিল না। মেয়র নির্বাচনের পর ম্যাডাম (বেগম খালেদা জিয়া) আমাকে অ্যাডভাইজার করেছিলেন। দুই দিন আমি অ্যাডভাইজরি কমিটির মিটিংয়ে গিয়েছিলাম।“এরপর কোনো রাজনৈতিকি সভা সমিতিতে আমি ছিলাম না। কোথাও আমাকে দেখেছেন? হ্যাঁ, সামাজিক কাজকর্মে আমি গেছি। রাজনীতির আইডিয়া তো আমার নেই।”

রাজনীতির ধারণা না থাকলে মেয়র কীভাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন–এমন প্রশ্নে মনজুর আলম বলেন, “মেয়র হয়েছি সামাজিক কাজকর্মের মাধ্যমে। আমি মানুষের কাছে গেছি সামাজিক কাজ নিয়ে। মানুষ আমাকে চেনে বলে ভোট দিয়েছিল।

“তুফাইন্যা (তুফানে উড়ে আসা) আর জোয়াইরগ্যা (জোয়ারে ভেসে আসা) মানুষ আসলে কী হবে? আবার ভাটাতে ভেসে যাবে।”

মেয়র পদে নির্বাচন করার বিষয়ে কী ভাবছেন প্রশ্ন করলে মনজুর আলম বলেন, “এখনো কিছু চিন্তা করিনি। সরকার এসেছে মাত্র দুই মাস। এখানে (চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন) এখনো কোনো নির্বাচনের কথাই তো সামনে আসেনি।”মনজুর আলম নির্বাচনের বিষয়ে ‘চিন্তা করেননি’ দাবি করলেও ভিন্ন দাবি এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরীর যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিনের।

গুঞ্জনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “মনজুর আলম দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাচ্ছেন এরকম না। তবে মেয়র প্রার্থী হতে পারেন।

“সেটা এনসিপি থেকে বা ১১ দলীয় জোট থেকেও হতে পারেন। এ নিয়ে জোটের দলগুলোর সাথে আমাদের আলোচনা চলছে। জামায়াতে ইসলামীর সাথেও আলোচনা করেছি। ১১ দলীয় জোট থেকে একজনকে মেয়র প্রার্থী করা যায় কিনা।” মেয়র মনজুর আলমের সঙ্গে প্রার্থী হওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা এবং তার মতামত কী জানতে চাইলে আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, “উনি রাজি। তা না হলে তো হাসনাত আব্দুল্লাহ ভাই উনার বাড়িতে যেতেন না।

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ গত মঙ্গলবার নগরীর কাট্টলীতে মনজুর আলমের বাড়িতে গিয়ে দেখা করে আসেন। তারপরই জল্পনা ডালপালা মেলতে থাকে।

তবে মনজুর আলমের বিষয়ে এনসিপির ভেতরে মতভিন্নতা আছে জানিয়ে আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, “উনার অতীতের একটা রাজনৈতিক ক্যারেক্টার আছে। সেটা এবং উনি মেয়র প্রার্থী হলে আমরা যারা দীর্ঘদিন এনসিপির রাজনীতি করি, আমরা অনেকটা আড়ালে পড়ে যেতে পারি। এ দুটো বিষয় নিয়ে আমাদের লোকজনের মধ্যে এখনো ভিন্ন মত আছে। এখন পর্যন্ত কিছু চূড়ান্ত হয়নি।”

উত্তর কাট্টলীর বাসিন্দা মনজুর আলমের বাবা আবদুল হাকিম কন্ট্রাকটর ছিলেন পাহাড়তলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি নগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্যও ছিলেন।

নগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ১৯৯৪ সাল থেকে টানা তিনবার নির্বাচনে জয়ী হয়ে ১৬ বছর চট্টগ্রামের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় মনজুর আলম ছিলেন উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর। তখন তিনি রাজনীতিতে ‘মহিউদ্দিনের মনজু’ নামেই পরিচিত ছিলেন।

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার হলে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পান মনজুর। সেসময় প্রায় দুই বছর তিনি ওই পদ সামলান।

এরপর ২০১০ সালের সিটি নির্বাচনে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নিজের ‘গুরু’ মহিউদ্দিনের বিপক্ষে বিএনপির সমর্থনে মেয়র প্রার্থী হন মনজুর আলম। ওই বছরের ১৭ জুন প্রায় এক লাখ ভোটের ব্যবধানে মহিউদ্দিনকে হারিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) মেয়র নির্বাচিত হন।

মেয়র নির্বাচিত হয়ে মহিউদ্দিনের বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখাও করেছিলেন মনজুর আলম। আবার ঢাকায় গিয়ে খালেদা জিয়ার হাতে ফুল দিয়ে কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছিলেন। সে সময় তাকে উপদেষ্টা করে নেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

পেশায় ব্যবসায়ী মনজুর আলম শিল্পগোষ্ঠী মোস্তফা হাকিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। শিল্পপতি মনজুর বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে কয়েক দশক ধরে সম্পৃক্ত।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল দ্বিতীয়বার বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিলেও মনজুর আলম ভোট শুরুর তিন ঘণ্টার মাথায় ‘কারচুপির’ অভিযোগে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। সেইসঙ্গে রাজনীতি ছাড়ারও ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।

এরপর ২০১৬ সালের ১ অক্টোবর বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের এক অনুষ্ঠানে মহিউদ্দিন ও মনজুর আলমের এক মঞ্চে পাশাপাশি বসা নিয়ে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন শুরু হয়। বলা হয়, মনজুরকে আওয়ামী লীগে ফেরাতে আগ্রহী মহিউদ্দিন।

মনজুর আলম নিজেও ওই বছরের ১৭ অগাস্ট আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার আগ্রহের কথা বলেছিলেন। ২০২১ সালে নগর বিএনপির নতুন কমিটিতেও তার নাম আসেনি।

মনজুর আলমের ভাতিজা দিদারুল আলম চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড আসনে আওয়ামী লীগের দুই বারের সংসদ সদস্য ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হয়েছিলেন মনজুর আলম। পরে ২০২৪ সালের নির্বাচনেও ব্যর্থ হয়ে চট্টগ্রাম-১০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন।

সম্প্রতি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন মনজুর আলম। সবশেষ গেল ২ মার্চ চট্টগ্রামের একটি কনভেনশন সেন্টারে এনসিপির ইফতার আয়োজনে মনজুর আলমের ছবিসহ পানির বোতল বিতরণ নতুন আলোচনার জন্ম দেয়।

BANGLADESH বিভাগের অন্যান্য খবর

News Diplomats Icon

Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com

The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.

©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats

Develop by _ DigitalSolutions.Ltd
শিরোনাম পরমাণু ইস্যুতে ছাড় দিতে পারে ইরান, আশাবাদ পাকিস্তানের শিরোনাম উইন-উইন চুক্তি চায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, চাপ সৃষ্টি করে দর কষাকষি শিরোনাম পাকিস্তানের সামরিক-বেসামরিক কূটনীতি বিশ্বজুড়ে ঝড় তুলেছে শিরোনাম ইরানের ১০,০০০ কোটি ডলারের জব্দ , আলোচনার বড় বিতর্ক শিরোনাম পোপ লুই বনাম প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্বন্দ্ব : খ্রীষ্টধর্মের অপমান! শিরোনাম জুলাইয়ে দায়মুক্তি পেলেও শাপলা চত্ত্বরে ফাঁসছেন আইজিপি চৌধুরী মামুন