সিলেট নগরীর ব্যবসায়ী ও জমির মালিকদের একটি অংশ অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি মোস্তাক হাসান দলবদলের পরও এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি পূর্বে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং মহানগর যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা মুশফিক জায়গীরদারের ভাই হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। মোস্তাক হাসান তার ছোট ভাই মুশফিক জায়গীরদার এর প্রভাব ব্যবহার করে স্থানীয় একটি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির পদও লাভ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুশফিক দেশত্যাগ করলে মুস্তাক কিছুদিন আড়ালে থাকেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর তিনি প্রায় ১৫০ জন সমর্থক নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ শুরু করেন। এরপর থেকেই নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে তিনি পুনরায় এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, মোস্তাক বিভিন্ন বাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে “সমিতি ফান্ড”, “উন্নয়ন অনুদান” বা “নিরাপত্তা খরচ” নামে অর্থ দাবি করতেন। অনেক ব্যবসায়ী সরাসরি বিরোধিতা করতে ভয় পেয়ে নিয়মিত টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান। এক দোকান মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তিনি নিজে না এলেও তার লোকজন এসে টাকা নিয়ে যেত। না দিলে দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো।”
এছাড়া জমি সংক্রান্ত বিরোধেও তার প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকায় কম দামে জমি বিক্রি করতে চাপ সৃষ্টি করা, রাস্তা বা প্রকল্পের অজুহাতে জমির দখল নেওয়া এবং দলীয় সমর্থকদের দিয়ে মালিকদের ভয় দেখানোর ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। এক জমির মালিক বলেন, “দাম না মেনে বিক্রি করতে রাজি না হলে রাতে অচেনা লোক এসে হুমকি দিত, কখনো জমিতে বালু ফেলে দখলের চেষ্টা করা হতো।”
অন্যদিকে কয়েকজন পরিবহন ব্যবসায়ী জানান, তাদের গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া এবং নির্দিষ্ট লোকের মাধ্যমে চাঁদা আদায়ের ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব কার্যক্রমের ফলে এলাকায় ব্যবসায়িক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের পরও যদি একই ধরনের অভিযোগ অব্যাহত থাকে, তবে তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক। তারা প্রশাসনের নজরদারি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তাক হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats