বার্সেলোনায় কত ট্রফি জিতেছেন, সেই হিসাব রেকর্ড বইয়ে আছে। কিন্তু অনুশীলনের মাঠে কত দিন আনন্দে কেটেছে, সতীর্থদের সঙ্গে কত হাসি ভাগ করে নিয়েছেন, তার হিসাব কোথায়! লিওনেল মেসি বার্সেলোনার সোনালি দিনগুলোয় ফিরে তাকালে তাই শুধু শিরোপা দেখেন না। মনে পড়ে ফুটবল উপভোগ করার কথা, প্রতিদিন মাঠে এসে ভালো লাগার কথা। যে ক্লাব তাকে প্রায় সব দিয়েছে, তা বোঝাতে আর্জেন্টাইন মহাতারকার কয়েকটি শব্দই যথেষ্ট, ‘আমার জীবনের ক্লাব।’
২০২৬ সালের প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ক্রীড়া পুরস্কার গ্রহণের আগে স্পেনের ওভিয়েদোয় সংবাদ সংস্থা ইএফইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এভাবেই স্মৃতির দরজা খুলেছেন মেসি। বার্সেলোনার দিনগুলো থেকে কাতারের বিশ্বকাপ জয়, প্রয়াত বাবার উপদেশ থেকে নিজের পরিচয়, কথায় কথায় উঠে এসেছে তার জীবনের নানা অধ্যায়। এ বছরের পুরস্কারের জন্য মেসিকে বেছে নেওয়ার বিষয়টি আগেই ঘোষণা করেছে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশন।
জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, কার্লেস পুয়োলদের সঙ্গে বার্সেলোনায় এক অসাধারণ সময় কাটিয়েছেন মেসি। একের পর এক শিরোপা এসেছে। তবে সেই দলটির বিশেষত্ব তার কাছে জয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বড় অর্জনের পেছনে ছিল একসঙ্গে খেলার আনন্দ।
মেসি বলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান ছিলাম, সবকিছু জিততে পেরেছি। আর যেভাবে জিতেছি, সেটাও বিশেষ ছিল। খেলাটা উপভোগ করেছি, জয় ও বড় অর্জনগুলো উপভোগ করেছি। তবে সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছি প্রতিদিনের সময়টা, অনুশীলনগুলো। আমাদের দারুণ সময় কেটেছে।’
এমন সব ফুটবলারের সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়াকেও সৌভাগ্য মনে করেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী। তাদের সেই দল মাঠে সাফল্যের পেছনে ছুটেছে, আবার সেই পথচলার প্রতিটি দিনও উপভোগ করেছে।
বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে দুই মৌসুম কাটিয়ে মেসির ঠিকানা এখন ইন্টার মায়ামি। কিন্তু দূরত্ব বাড়লেও পুরোনো শহর ও ক্লাবের প্রতি টান কমেনি। তার কাছে বার্সেলোনার অর্থ কী, অল্প কথায় তা বোঝানো কঠিন। ওই শহরেই জন্ম তার তিন সন্তানের। জীবনের বহু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বার্সেলোনা।
মেসির ভাষায়, ‘শহর ও ক্লাবটির প্রতি আমার খুব, খুব বিশেষ ভালোবাসা আছে।
ক্লাব ফুটবলে প্রায় সব জয়ের পরও জাতীয় দলের হয়ে একটি ট্রফির অপেক্ষা দীর্ঘ হয়েছিল তার। ২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপ জিতে সেই অপূর্ণতা ঘোচান মেসি। সেই অর্জনকে তিনি বর্ণনা করেছেন ‘স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু’ হিসেবে।
ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে করা গোলগুলোও তাই তার ক্যারিয়ারে আলাদা জায়গা নিয়ে আছে। শুধু গোলের সৌন্দর্য নয়, ম্যাচটির গুরুত্ব ও শিরোপার হাতছানি সেগুলোকে বিশেষ করে তুলেছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল ও এল ক্লাসিকোয় করা স্মরণীয় গোলগুলোর পাশে বিশ্বকাপ ফাইনালের গোলগুলোকেও রেখেছেন তিনি।
এত আনন্দের স্মৃতির মধ্যে বাবার কথা বলতে গিয়ে সাক্ষাৎকারে এসেছে বিষাদের ছোয়াও। গত আগস্টে মারা যাওয়া হোর্হে মেসি এই পুরস্কারের খবর পেয়ে ভীষণ খুশি হয়েছিলেন। খেলার ব্যস্ততা থাকলেও ছেলেকে ওভিয়েদোয় গিয়ে পুরস্কারটি গ্রহণ করতে বলেছিলেন তিনি। মেসির বিশ্বাস, মাঠের সাফল্যের বাইরেও তার অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এই সম্মান বাবাকে গর্বিত করত।
বাবার সঙ্গে অনুশীলন ও ম্যাচ নিয়ে নিয়মিত কথা হতো মেসির। অনেক কথার মধ্যে একটি উপদেশ আজও মনে গেঁথে আছে, চেষ্টা থামানো যাবে না। সেই কথা মনে করে মেসি বলেন, ‘তিনি বলতেন, বল ধরো আর চেষ্টা করো। সফল হলে বা ব্যর্থ হলেও সেই মুহূর্তে আটকে থেকো না। কারণ, আবার চেষ্টা করার সুযোগ সব সময়ই থাকে।’
নিজেকে মানুষ কীভাবে মনে রাখুক, সেই প্রশ্নের উত্তরেও ফিরে এসেছে একই কথা। রেকর্ড বা ব্যক্তিগত পুরস্কারের তালিকা তুলে ধরেননি মেসি, ‘কখনো যা চেয়েছি, তা পেয়েছি। কখনো পাইনি। কিন্তু সামনে যা এসেছে, তা জেতার চেষ্টা কখনো থামাইনি।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats